সিলেটের জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের পৃথক তিনটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আসামি পালিয়ে গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল বিকেল ৫টা ০৫ মিনিটে জৈন্তাপুর সদর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পশ্চিম গৌরীশংকর এলাকা থেকে শাকিল মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মাসদাইর (তালা ফ্যাক্টরি) এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে এবং বর্তমানে জৈন্তাপুরের আসামপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাস করতেন। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ১০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার ৮০০ টাকা। শাকিল এলাকায় চিন্হিত একজন ইয়াবা কারবারি বলে জানায় পুলিশ। এর আগে একাধিকবার সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলো।
একই দিনে দুপুর ১২টা ০৫ মিনিটে আলুবাগান (দাউদাটিলা) এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ক্রাশার মিলে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনিত্য নম (৩৪) নামের এক ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া দুটি ব্যাগ তল্লাশি করে ২৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে ১১ বোতল রয়্যাল গ্রিন ডিলাক্স ব্লেন্ডেড হুইস্কি এবং ১২ বোতল এসি ব্ল্যাক পিওর গ্রেইন ডিলাক্স হুইস্কি ছিল। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।
একই তারিখ রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ৪ নং বাংলা বাজার কেন্দ্রী নতুন ব্রিজ এলাকায় আরও একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দুই ব্যক্তি দুটি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বস্তায় তল্লাশি করে ১২০ বোতল ফেন্সিডিল জাতীয় মাদক সিরাপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সিরাপের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, এসব ঘটনায় পৃথকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক শাকিলকে শনিবার পুলিশ পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে তিনি জানান।