
সিলেটে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ (র্যাব-৯)।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ইউনিয়নের নলজুড়ী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন আফসার আহমেদ (২৫)। তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
র্যাব-৯ জানায়, ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদে রণকেলী এলাকার বাসিন্দা। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে চক্রের সদস্যরা এক নারীকে দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করায়। পরে গত ৯ এপ্রিল রাতে দেখা করার কথা বলে সিলেট নগরীর যতরপুর এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগী ও তার এক বন্ধুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক কাপড় খুলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৫ হাজার টাকা, একটি রূপার চেইন ও একটি রূপার ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। মান-সম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা এনে ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি আফসার আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৯ এর মিডিয়া কর্মকর্তা (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) এ কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান , দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।