
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় প্রবল শৈত্য প্রবাহের কারণে পরিবার পরিচয়হীন শীতার্ত ভবঘুরে মানুষের পাশে শীতের কম্বল বিতরণ করছে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন।
ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনে জৈন্তাপুর উপজেলায় মধ্যরাত থেকে বেড়ে যায় আকস্মিক শীতের তীব্রতা। ভোর থেকে কনকনে শীত ও ঘনকুয়াশায় আছন্ন হয়ে পড়ে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। দূপুর পর্যন্ত ছিলো না রোদের দেখা। তার উপর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টা থেকে দক্ষিণ পশ্চিম দিকে থেকে মৃত শৈত্য প্রবাহ শুরু হয় যা সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে তীব্র কনকনে আকার ধারণ করে।
আবহাওয়া আপডেট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১লা জানুয়ারি ২০২৬ জৈন্তাপুর উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ধারণ করা হয়েছে ১২.০৯° সেঃ। এদিকে উত্তরবঙ্গে কুয়াশা বেল্ট “কনকন” এর বর্ধিতাংশ সিলেট বিভাগ অতিক্রম করতে থাকায় আগামী কয়েকদিন শীতের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
চলতি শৈত্য প্রবাহের কারণে উপজেলা নিম্ন আয়ের মানুষের যেমন ভোগান্তির শেষ নেই তেমন সবচেয়ে বেশী বিপাকে পরেছে উপজেলার বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারী পরিবার,পরিচয়হীন ভবঘুরে মানুষগুলো।ভবঘুরে এই মানুষগুলো মানসিক ভারসাম্যহীন যার কারণে আশপাশের হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে পাওয়া খাবার খেয়ে জীবনধারণ করলেও শীত নিবারণের জন্য তাদের নেই কোন শীতবস্ত্র।
ঠিক এমন সময় শীতের তীব্রতার মধ্যে উপজেলার ভবঘুরে এই মানুষ গুলোর মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করতে এগিয়ে আসে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আট ঘটিকায় কুয়াচ্ছন্ন তীব্র শীতে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাজার দরবস্তে শীতের কম্বল নিয়ে হাজির হন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। এ সময় দরবস্ত বাজারে যাত্রী ছাউনী,সাপ্তাহিক হাঁটের বিভিন্ন সেডের নিচে, পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দায় অবস্থান করা মানসিক ভারসাম্যহীন নারী পুরুষদের গায়ে শীতের কম্বল জড়িয়ে দেন তিনি।
পরবর্তীতে উপজেলা সদরের স্টেশন বাজার এলাকায় এসে মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে মানুষগুলোকে খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের শরীলের উপর নিজ হাতে কম্বল আবৃত করে দেন।
সবশেষে ২ নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ৪ নং বাংলা বাজারে এসে উক্ত এলাকায় আশ্রয় নেয়া ভবঘুরে মানুষদের নিকট শীতের কম্বল বিতরণ করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মিজ পলি রানী দেব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় সহ অন্যান্যরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, আজ তিনটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে অবস্থান নেয়া ভবঘুরে মানুষ যার বেশীরভাগ মানসিক ভারসাম্যহীন তাদের শীতের কম্বল দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য ইউনিয়নগুলোতে শীতের কম্বল বিতরণ করা হবে। তিনি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার প্রতি আহবান জানান।